মোহনপুর (রাজশাহী) উপজেলা প্রতিনিধি :
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মোহনপুরের সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও পুনর্বাসনের কাজ শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। এসব সড়কের উন্নয়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।
সোমবার দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়কগুলোর উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন।
উদ্বোধনকালে এমপি মিলন বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার সময় মোহনপুরবাসীকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তাঘাট সংস্কার ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যে কয়েকটি সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার আরও সড়ক ও অবকাঠামোর উন্নয়ন করা হবে।
তিনি বলেন, শুধু রাস্তাঘাট নয়, সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ প্রয়োজনীয় সব প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। সরকারের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নেও কাজ করা হচ্ছে।
এমপি মিলন আরও বলেন, সরকারের ছয় মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিদের ভাতা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামীতে দেশের নারীদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ কার্ড কোনো দল, ধর্ম বা শ্রেণি-পেশার ভিত্তিতে নয়; সব নারীর জন্য উন্মুক্ত থাকবে। একইভাবে কৃষকদের কৃষি কার্ড দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
শফিকুল হক মিলন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার ছিলেন। তাঁর হাতে নেওয়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও দেশের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়েছেন। তিনি বেগম খালেদা জিয়াকে নারী জাগরণের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু করেছেন। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও বিএনপির নেতাকর্মীরা জনগণের কল্যাণে কাজ করছেন। তবে একটি মহল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত করতে ষড়যন্ত্র করছে দাবি করে এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শামিমুল ইসলাম মুন, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আর রশিদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজিম উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক বাচ্চুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবাইদা সুলতানা,
মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, এলজিইডির রাজশাহী জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ, মোহনপুর উপজেলা প্রকৌশলী রকিব হাসান, উপসহকারী প্রকৌশলী রিপন আলী সরকার ও সাব্বির খন্দকারসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
উদ্বোধন করা সড়কগুলোর মধ্যে রয়েছে—চাঁদপুর চৌরাস্তা জামে মসজিদের পাশ থেকে মাখনপুর গুচ্ছগ্রাম হয়ে মুনসুর মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত ১ হাজার ১৯৫ মিটার, মৌগাছী জিপিএস থেকে কৃষ্ণপুর ইউজেডআর পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মিটার, কোটালীপাড়া ইউজেডআর থেকে কোটালীপাড়া বিডব্লিউডিবি পর্যন্ত ৯৯০ মিটার, দাঁড়াপাড়া থেকে মুগাইপাড়া হাট পর্যন্ত ১ হাজার ২৭০ মিটার, বিষহারা ইউজেডআর থেকে হাটখোলা পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ মিটার এবং কৃষ্ণপুর ইউজেডআর থেকে কৃষ্ণপুর পূর্বপাড়া পর্যন্ত ৪৫০ মিটার সড়ক।
স্থানীয়রা জানান, এসব সড়ক চাঁদপুর, নখড়াজিঘাট, হিন্দুপাড়া, ধোরসা, চক বিরহী, বিষহারা ও কৃষ্ণপুর এলাকার মানুষের যোগাযোগের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে সড়কগুলোর বেহাল অবস্থার কারণে স্থানীয়দের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। উন্নয়নকাজ শেষ হলে এসব এলাকার মানুষের যাতায়াতব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন তারা।
Leave a Reply